জনপ্রিয় পোস্টসমূহ

শুক্রবার, ৩ ডিসেম্বর, ২০১০

বারণ

আমকে বারংবার বারণ করা হইয়াছে
আমি অবাধ্য হইয়াছি
আমাকে দাহন যন্ত্রণা অনুভব করানো হইয়াছে
আমি এতটুকু দগ্ধ হইনি
আমাকে রাক্ষুসে গর্জন শোনানো হইয়াছে
আমি মুচকি হাসিয়াছি
আমাকে তিমির নক্ষত্র হীন রাত্রি দেখানো হইয়াছে
আমি অঞ্জলিতে জেলেছিলেম আলো
আমাকে জীবন্ত লাশেদের গল্প শোনানো হইয়াছে
আমি তখন অন্য কোন গল্পে বিভোর
আমাকে রংচটা ভোর দেখানো হইয়াছে
আমি তখন সন্ধ্যার কল্পনায় মশগুল
আমাকে চাতক পাখির হাহাকার দেখানো হইয়াছে
আমি তখন তোমার কথা ভাবছিলাম
আমাকে তোমার রূপক মরীচিকা দেখানো হইয়াছে
আমি কল্পনায় তোমার সত্যতা প্রমাণ করেছি
তোমার দেয়া ক্ষতগুলোকে পুনরায় জীবিত করা হইয়াছে;
আমি তোমা হতে চিরবিদায় নেব বলে মুঠোফোনে-
অতঃপর-
তোমার হাসিতে বেমালুম সব ভুলিয়া দাড়ায়ে ঝাউ বনে
নক্ষত্র শিকারি আমি
তোমার মোহে চন্দ্রাহত হইয়া ঘরে না ফিরিলাম

(December 3, 2010)

বৃহস্পতিবার, ২ ডিসেম্বর, ২০১০

প্রেম-বৈশিষ্ট্য

ভালবাসা মানে এইসব জানা-
রাতে উড়ন্ত সেতু দিয়ে যাবার সময় নিচে রাজপথে ভীষণ যানজটে
জ্বলে থাকা আলো তোমার দেখতে ভাল লাগে,
তোমার ভাল লাগে- ভোরের জানালার কাঁচ গলে আসা সূর্যটার প্রথম রোদেলা স্পর্শ,
সন্ধ্যায় ঈশানকোণে মেঘেদের দলীয় সমাবেশ,
মেঘ-বৃষ্টি ছুঁয়ে আসা প্রবল ঝড়ো হাওয়ায় অকারণ হাটা-হাটি,
অথবা ইলিশ ভাজা দুপুরের ঝুম বর্ষায় জানালা দিয়ে তাকিয়ে থাকা
ভালবাসা মানে এইসব জানা-
তোমার গ্রহণ লাগা সময় গুলোতে চুপচাপ পাশে থাকা,
তোমার অবসরে অবিরাম কথোপকথন,
তোমার ভাল লাগে- লক্ষ্মী পেঁচাদের নিশীথে গান শোনা
অথবা আমাকে নিয়ে স্বপ্ন-লিখন
ভালবাসা মানে তোমার ভালোলাগাগুলো আমার ভালো লাগছে।

তবে ভালবেসে ফেলেছি এমন কিন্তু বলছি না
আগামীতে ভালবাসব না এমনও কিন্তু বলছি না
শুধু বলছি ভাল লেগে গেছে-
হতে পারে কৃষ্ণগহ্বর হতেও অধিক গভীর এ ভালোলাগা
বলতে পার অনেকটা ভালবাসার মতই
তবে ঠিক ভালবাসা নয়
কারণ আমি জানি ভালবাসা বজ্রপাতের সাথে আসে না
একটা দুটা করে জমে ওঠা বালুকণার দ্বীপের মত
ভালবাসার জন্ম হয় অজস্র ভালোলাগার বালুকণার সহবাসে
সুতরাং আগে ভালোলাগাকে পূর্ণতা দাও
ভালবাসার প্রসঙ্গে পর্যায়ক্রমে আসা যাবে।

(
December 2, 2010)

সোমবার, ২৯ নভেম্বর, ২০১০

কৃত্রিম

সত্য কাটছি মিথ্যা দিয়ে
মিথ্যা কাটছি সত্য দিয়ে
অথচ রক্ত ঝরছে আমার
অন্ধ চোখে স্বপ্ন দেখছি- জেগে জেগে
মাঝে মাঝে আবার স্বপ্নই উকি দিচ্ছে আমার অঞ্জলিতে
শুধু কুয়াশার ঘোর কাটলে বুঝি যাই আমি দুঃস্বপ্নর বিছানায়

এই অন্ধকার মঞ্চে
শিকারি স্পট লাইট বারবার এসে ঝাপটে ধরে
অভিনয় করাটা একান্তই জরুরি
অবয় ঢাকতে হচ্ছে মিথ্যে মুখোশে
অকারণ হেসে খুন হওয়া,
স্বাভাবিক কৌতুক
এইসব ঢেকে দিচ্ছে অন্তরের ভেতরের মেঘগর্জন
হাসতে হাসতে চোখ ছল ছল
আসলেই কি তাই?
নাকি প্রবল বিদ্রোহে ফেটে পড়া অশ্রু ঢাকছি  
সস্তা রঙিন কাগুজে-হাসির মোড়কে!

 (November 29, 2010)

শনিবার, ২৭ নভেম্বর, ২০১০

নিমন্ত্রিত মেঘ-বন্দি অপ্সরী

সে আসবে না জানি তবুও
আমি তাকে নিমন্ত্রণ জানিয়েছি
আমার গন্তব্য হীন অগোছালো যাত্রায় সহভ্রমনকারী হবার
এক ব্যাগ অবসর নিয়ে বেরিয়ে পড়ে
যথাক্রমে পথ, সৈকত, পাহাড়, সূর্যাস্ত ও নির্জন দ্বীপে নক্ষত্র দেখার

সে আসবে না জানি
ঝিনুকে যদি রক্তাক্ত হয় সেই ভয়ে সে মুক্ত কুড়ায় না
জল যদি তার কাজল ধুয়ে ফেলে তাই সে বর্ষায় ভেজে না
শুনেছি চরণে যদি আঘাত লাগে তাই সে নগ্ন পায়ে শিশির ভেজা ঘাসে কখনো  হাটেনি
বজ্রপাতের শঙ্কায় সে নাকি কখনো বৈশাখের ঝরে আম কুড়োয় নি
সে থাকে তার চারপাশে দুর্ভেদ্য প্রাচীর তুলে

জানি সে আসবে না তবুও
আমি তাকে নিমন্ত্রণ জানিয়েছি
বন্ধ দরজায় তার দুঃখবিলাস
হয়ত সে আসতে চাইছে কিন্তু আসতে পারছে না
অথবা হয়ত ভবঘুরেদের নিমন্ত্রণ প্রত্যাখ্যান করা মেঘ-বন্দি মেয়েদের নিয়ম!

(November 27, 2010)

বৃহস্পতিবার, ২৫ নভেম্বর, ২০১০

অভিশপ্ত স্বাভাবিকতা

আমার মত কিছু অভিশপ্ত সত্তা
কখনো পারে না ছুঁয়ে যেতে হৃদ-ছায়া
-নিয়ম নেই
আমার আকাশকে চিনতে হয়;
দু'দণ্ড সময় দিতে হয়
সূর্যের আলো ঝরে আকাশের রক্তক্ষরণে;
-এসব আমাকে বুঝতে হয়
তবে তোমার বোঝার কোনই প্রয়োজন নেই
-সারা বেলা তোমার সুর্যবিলাস

আমার হারিয়ে যেতে বারণ- তাই হারাতে পারছি না
হারালে মহাকাশের কৃত্রিম উপগ্রহরা ঠিকই আমায় খুঁজে নেবে
আমার অবুঝ সব ভুলগুলো শবাধার হতে তুলে এনে
প্রতিটি ভুলের জন্য শাসন করবে- তখন আমি নতনেত্রে নীরব

জানি কোন প্রয়োজন নেই
তবুও নিমন্ত্রণ জানিয়ে রাখলাম
তুমি আসবে এবং যাবে- তোমার খেয়াল-খুশি মত
আমি থাকব আমার ঠিকানায়- আমাকে থাকতেই হবে
অথবা তোমার আহবানে আমি তেপান্তর- কিংবা আরও কিছুদূর

বলা হয়নি কিছুই স্পষ্টতায়- তবে আগামীতেও হবে না
বলার প্রয়োজনও ছিল না এবং বলেও কিছু হত না
সেদিন এবং অনেক আগেই তুমি বুঝেছিলে
জানি সঙ্গত কারণেই অসঙ্গত আমাকে এড়িয়ে গিয়েছ
ভেবো না আমি এড়াতে চাইনি
স্বাভাবিকতার দোহাই দিয়ে গড়তে চেয়েছিলাম ঘোলাটে কাঁচ
তবে পারিনি

তুমি থাকতে চাও স্পর্শের বাইরে- এবং থাকছ
জানি আমি ভেঙ্গে যাই বারবার-
তবুও তোমায় বাধা দেবার স্পর্ধা আমার নেই

দেয়ালের আড়ালে ছায়ায় শ্রাবণের পবন আয়োজন চলবে অহর্নিশ
কিন্তু সব লুকিয়ে রাখতে হবে- স্বাভাবিকতা আমার জন্য বাধ্যতামূলক
একটিবারও কেউ জানবে না- ওপারে তাণ্ডবে-তাণ্ডবে সব ধ্বংশস্তুপ
তারপর; চৈত্রের দুপরের মত সব হতে হবে স্বাভাবিক- কেমন জানি স্বাভাবিক! 

(November 25, 2010)

বুধবার, ২৪ নভেম্বর, ২০১০

অথবা ছল

শুয়ে আছি ঘুমের অভিনয়
ঘুমিয়ে আছি স্বপ্নের অভিনয়
ইচ্ছে মত ইচ্ছেগুলো বাক্সে ভরছি
ইচ্ছেগুলো ধূম্র ডানায়
ইচ্ছেগুলো উড়ে যায়
এলোমেলো সবকিছু
এলোমেলো ধুলায় ধুলায়
এলোমেলো চুল এলোমেলো বিছানায়
এলোমেলো ঘরে এলোমেলো আমি
ছন্নছাড়া ঘড়ির কাটা
ছন্নছাড়া ভবঘুরে পথ ছন্নছাড়া জীবন
ইচ্ছে মত অভিনয় করছি- সব পরিপাটি
সবই ভাললাগছে
-অথবা ভাললাগার অভিনয় করছি

(November 24, 2010)

যাবতীয় অনুকাব্য- ২

১.
নিশিতে জেগে জেগে স্বপ্ন দেখছি
বালিকা সুলভ এক তরুণী বিষয়ক স্বপ্ন
অনেক চেষ্টা করেও
তার কণ্ঠস্বর শুনতে পেলাম না
তারপর জোনাক জ্বালিয়ে
ভিজলাম মিথিলা বর্ষায়-
সারারাত একা একা!

২.
আমি মাঝে মাঝে ভুল স্বপ্ন দেখি
ভালবাসার মতন মরীচিকা
আমি মাঝে মাঝে যাই মেঘের দেশে
আমার উড়ে যাওয়াটাই বিভ্রন্ত্রতা
আমি মাঝে মাঝে ভালোবেসে ফেলি
স্পর্শের বাইরের ভালবাসা

৩.
ভাবছি তুমি আমি
আসলে তা না
ভাবছি শুধুই আমি
তুমি কিন্তু ভাবছ না
স্বপ্ন শুধুই আমার
ঘুম কিন্তু তোমারটা

(November 24, 2010)