জনপ্রিয় পোস্টসমূহ

সোমবার, ৬ মে, ২০১৩

আমন্ত্রণ

তুমি কি আমার আমার মত আত্নার সাথে কথা বল?
ঘুমিয়ে কি স্বপ্নের উল্লাসে নেচে ওঠো?
প্রশান্তি নেমে আসে অশান্তির আঙ্গুল ধরে 
শুনতে পাই বৃষ্টি নেমে আসে নুপুরের সুরে
ভিজবে কি বৃষ্টিতে শুধু একবার; হয়ত শেষবার?

তুমিও কি চাওনা দেখতে কলঙ্ক কিভাবে রটে?
হাত বাড়িয়ে আমি- আসবে কি তুমি প্রলয়ের উত্সবে?
নাটাইয়ের সুতো ধরে তুমি হেটে যাও-
এসো একবার নিয়মের বাইরে- শেকড় ভেঙ্গে
এসো একবার আমার বৃষ্টিবিলাসে

আমার অস্তিত্ব শেষ হবে আমার লেখা শেষ গানে
বৃষ্টির ধারালো জলে কেঁটে রক্ত বইবে
চাইলে তুমি তাকে মৃত্যু বলবে
এসো একবার; শুধু শেষবার
রক্তিম বৃষ্টির জলে ভেসে যাওয়া মঞ্চে


সেন্ট্রাল গভেমেন্ট বালক বিদ্যালয়

এতকিছু মনে নাই-
কার প্রেমে কখন ভেসেছি
অকেসনালি ডুবিয়েছি কাকে
শুধু মনে পরে সেন্ট্রাল গভেমেন্ট বালক বিদ্যালয়
আমরা কতিপয় হারামির ছাওয়াল
সেন্ট্রাল গার্লস ইস্কুলের সামনে
মনে মনে পেম-পেম গেম খেলেছি
কেউ হেসেছে তাই আমরাও হেসেছি
সেইসব গেছে ম্যালা দিন আগে- 
যখন নিয়েন্ড্রথলেরা সবে মাত্র প্রাথমিক বিদ্যালয়ে
ও'রা শিখেছে মানুষ হতে মতান্তরে সভ্য হতে
আর আমরা বরাবরই বর্বর
যদিউ ভাদ্র মাস আসলে উদের মত ভদ্র হইতে মুন্চায়
তবুও খুদারই কছম- পুংটামি ছাড়া দুনিয়াতে ভালা কিছু নাই

অনুনয়

ঠিক বালির মত নয়
হয়ত কিছুটা সময়ের মত
অনেকটা দুরে সরে এসে
ঢের অনুভব করি ঢেউয়ের উষ্ণতা
এতটা পথের রেখায়
রক্তাক্ত গুমট আর্তচিত্কার
আর সারিবদ্ধ অশ্রু ফোটা
মায়াবী সন্ধ্যাটা কেন এতটা ক্ষণস্থায়ী হয়?
ভাবতে ভাবতে আসে আর একটা তন্দ্রার জন্মলগ্ন
জন্ম হয় ঘামে ভেজা একটা দুঃস্বপ্নের
তারপর এক এক ফোটা করে মরে যেতে থাকি
তারপর অজস্র প্রার্থনায় চাই আর একটা জীবন।

গৌণ

অস্বীকার করে যাও-
অবহেলা ধুলো জঞ্জাল
মাছি উড়ুক ঠোট জুড়ে-
ক্ষত শুকনোর অবকাশ পায় না

নিজের মুখোমুখি হতে তুমি চাও না
নির্লিপ্ত পাষাণের তরবারি রক্ত ছোয় না
ছুঁয়ে যায় ঢের অশ্রু- হতাশার এক বুক
দালানের গৌরবে সিঁড়িতে শুয়ে থাকা প্রতি রাত
কখনও কমেনি শীত, আজও সে কমে না

বনিকের অভিলাষে নিয়নের সাইন ভাসে
সড়ক দীপপুঞ্জ জুড়ে অনাশ্রিত শত অনুনয়
ফুটপাথ ডাইনিং টেবিলে
ছত্রাক রঙের পাউরুটি
খুটে ফেলে উড়িয়ে, খিদে দেবে তারিয়ে
তুমি-আমি বিলাসে বিলেতি ফাস্টফুড



Mutual feelings

আমি যতবারই দাঁত কেলিয়ে হেসেছি
ঈশ্বর ততবারই দিয়েছেন দাঁত ভাঙ্গা জবাব
যতবারই আনন্দে আত্মহারা হয়ে ছুটেছি
ততবারই তিনি মেরেছেন ল্যাং
যতবার সম্ভাব্য খুশির খবরে ফেলেছি প্রশান্তির নিশ্বাস
ততবার তিনি বালিশ চেপে ধরেছেন আমার মুখের উপর
কোন অপরাধ ছাড়াই ক্ষমা চেয়েছিলাম একবার
অনুগত্য বিছিয়ে ভিক্ষে চেছিলাম মুক্তির
চেতনার প্রতিটি অনুমুহুর্তে নরখের যন্ত্রণা পেয়েছি উপহার
বধির স্থব্ধতায় তিনি বলেছেন "আমি তোমাকে ঘৃনা করি"
তাই আজ আমিও বলি "the feeling is mutual"

অসহায়

নিহত সূর্যের ম্লান আলোয় সে আলিঙ্গন রেখে যায়
যেখানে কাশফুলের আঘাতে রক্তাক্ত হেরে গিয়েছি বার বার 
সে জানে আমার স্পর্শকাতর গাড় সব মুহূর্তগুলি।

হেঁয়ালিপনায় আমার জীবনকে গোলাপের পাপড়ি ভেবে
সে চাইলেই ছিঁড়তে পারে সযত্নে
শাশ্বত কামনাকে রূপ দিতে পারে মিথ্যের মত
যেন আমি ছিটকে পরি ব্যাসার্ধের বাইরে।

অথচ যতবার আমি চেয়েছি তাকে এড়াতে
ততবার আমি টুকরো-টুকরো হয়ে ভেঙ্গে পরেছি
তার ভয়ঙ্কর লাবণ্যের কাছে নিজেকে অসহায় জেনে

অবহেলা

ঈশ্বর আপনি স্যান্ডেল খুলে ছায়াপথ জুড়ে হাঁটুন
পৃথিবীকে ভাবুন পিঁপড়ের বাসা- শিশুতোষ খামখেয়ালীতে
এক চিমটি পরিমাণ প্রশান্তি দিন
যেন ইচ্ছে হলেই নরক বইয়ে দিতে পারেন মস্তিস্ক জুড়ে
চোখ ফেটে বয়ে যাক অশ্রু-জলোচ্ছ্বাস
আপনি তখন ব্যস্ত কাগজের নৌকো বানাতে